Skip to content

Upcoming
Norway
0-0
England
Source: ESPN

আর্লিং হালান্ড নাকি হ্যারি কেইন, পরিসংখ্যান ও শক্তিতে কে এগিয়ে?

ছবি: সংগৃহীত

শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এবার তাদের সামনে ব্রাজিলকে বিদায় করে চমক দেখানো নরওয়ে। সেমিফাইনালে উঠতে হলে থমাস টুখেলের দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে খেলতে হবে নিজের সেরাটা। একই সঙ্গে নরওয়ের প্রাণভোমরা আর্লিং হালান্ডকে আটকে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জও থাকবে ইংলিশদের সামনে।

ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচকে ঘিরে নানা গল্প তৈরি হলেও সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ নিঃসন্দেহে হ্যারি কেইন ও আর্লিং হালান্ডকে ঘিরে। তাহলে পরিসংখ্যানের বিচারে কে এগিয়ে?

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে হালান্ড

এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে গোলের হিসেবে কেইনের চেয়ে এগিয়ে আছেন হালান্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার ইতোমধ্যে ৭টি গোল করেছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র একটি গোল পিছিয়ে, আর কেইনের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন।

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হালান্ড এই সাত গোল করেছেন একটি ম্যাচ কম খেলেই। নরওয়ে আগেই নকআউট নিশ্চিত করায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল।

এই গ্রীষ্মে প্রতি ৯০ মিনিটে হালান্ডের গোল করার গড় ১.৮, যেখানে কেইনের গড় ১.২। এক্সপেক্টেড গোল (xG)-এর হিসাবেও এগিয়ে নরওয়েজিয়ান তারকা। হালান্ডের xG ৪.৪, আর কেইনের ৩.৪।

হালান্ডের সাতটি গোলই এসেছে ওপেন প্লে থেকে। বিপরীতে কেইনের ছয় গোলের মধ্যে দুটি এসেছে ক্রোয়েশিয়া ও মেক্সিকোর বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে। দুই স্ট্রাইকারের মধ্যে বক্সের বাইরে থেকে একমাত্র গোলটিও হালান্ডের, যা তিনি করেছিলেন ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক শটে।

গোল করার ধরনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। হালান্ড বাম পায়ে চারটি, ডান পায়ে দুটি এবং একটি হেড থেকে গোল করেছেন। অন্যদিকে কেইনের তিনটি গোল এসেছে হেডে এবং তিনটি ডান পায়ের শটে।

মৌসুমজুড়ে উজ্জ্বল ছিলেন কেইন

বিশ্বকাপে হালান্ড এগিয়ে থাকলেও ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমটি ছিল হ্যারি কেইনের ক্যারিয়ারের সেরা সময়গুলোর একটি।

২০২৩ সালে টটেনহ্যাম ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর এমন দুর্দান্ত মৌসুম হয়তো তিনিও কল্পনা করেননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে করা পেনাল্টি গোলসহ এই মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩-এ।

এই অর্জনের মাধ্যমে ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে গার্ড মুলারের ৭২ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে সর্বকালের তালিকায় এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন কেইন। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের গোলেই বায়ার্ন লিগ ও কাপ—দুই শিরোপাই জিতেছে।

২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির ৮২ গোলের পর এক মৌসুমে এত বেশি গোল করা একমাত্র ফুটবলারও এখন কেইন।

অবশ্য হালান্ডও পিছিয়ে ছিলেন না। চার মৌসুমের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জিতেছেন তিনি। মৌসুমজুড়ে ৬৩ ম্যাচে করেছেন ৫৮ গোল। এর মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৩৮টি এবং নরওয়ের হয়ে মাত্র ১১ ম্যাচে করেছেন অবিশ্বাস্য ২০টি গোল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দুই তারকার দাপট

২০২৪ সালের পর থেকে নরওয়ের হয়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হননি হালান্ড। বর্তমানে তিনি টানা ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছেন। এই ধারার শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে নেশনস লিগের ৪-১ ব্যবধানের জয়ে।

এই সময়ে তিনি করেছেন ২৭ গোল। এর মধ্যে ব্রাজিল, সেনেগাল, ইরাক, ইতালি ও এস্তোনিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল রয়েছে। ইসরায়েল ও কাজাখস্তানের বিপক্ষে করেছেন হ্যাটট্রিক, আর মলদোভার বিপক্ষে এক ম্যাচেই করেছিলেন পাঁচ গোল।

নরওয়ের জার্সিতে ৫৪ ম্যাচে হালান্ডের গোলসংখ্যা এখন ৬২, যা তাকে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইয়োরগেন জুভের গোলসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ এটি।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৯ ম্যাচে ৮৫ গোল করে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন। তিনি দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়েন রুনির চেয়ে ৩২ গোল এগিয়ে।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে করা গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে গেছেন এই বায়ার্ন ফরোয়ার্ড।

দলের খেলায় বেশি অবদান রাখেন কেইন

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যদি দুজন সমান গোল নিয়ে শেষ করেন, তাহলে টাইব্রেকারে এগিয়ে থাকবেন হ্যারি কেইন। কারণ তার ঝুলিতে রয়েছে একটি অ্যাসিস্ট, যা তিনি মেক্সিকোর বিপক্ষে জুড বেলিংহামকে দিয়েছিলেন। হালান্ডের এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাসিস্ট নেই।

শুধু গোল নয়, দলের আক্রমণভাগেও কেইনের অবদান তুলনামূলক বেশি। গত মৌসুমে তিনি ৩৫টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন, যেখানে হালান্ডের ছিল ১৭টি। পাসের সংখ্যাতেও কেইন অনেক এগিয়ে—৭২৭টির বিপরীতে হালান্ডের ছিল ৩৮৪টি।

ক্লাব ফুটবলে এই মৌসুমে প্রতি ম্যাচে টাচের হিসাবেও কেইন এগিয়ে ছিলেন (৪৩.৮ বনাম ২২.৫)। প্রতি গোলের বিপরীতে টাচেও তার পরিসংখ্যান ভালো (৩২.৩ বনাম ২৭.৩)। বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতি ম্যাচে টাচে কেইনের গড় ২৫.৪, হালান্ডের ২৫.০। প্রতি গোলের বিপরীতে টাচেও কেইন এগিয়ে (২১.২ বনাম ১৪.৩)।

তবে এ থেকে এই ধারণা করা ঠিক হবে না যে হালান্ড শুধু গোল করতেই পারেন। ক্লাব ফুটবলে এই মৌসুমে কেইনের ৭টির বিপরীতে হালান্ডের অ্যাসিস্ট ছিল ৯টি।

পেনাল্টিতেও দুইজনই নির্ভরযোগ্য

ম্যাচ যদি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়, তাহলে দুই দলেরই ভরসার নাম হতে পারেন এই দুই স্ট্রাইকার।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে কেইনের প্রথম পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ। তবে গোলকিপার নির্ধারিত লাইনের বাইরে চলে আসায় পেনাল্টিটি পুনরায় নেওয়ার সুযোগ পান কেইন এবং দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোল করতে ভুল করেননি। পরে তিনি জানান, ভিডিও দেখে গোলরক্ষকের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পেয়েছিলেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কেইন ১২৩টি পেনাল্টির মধ্যে ১০৯টিতে সফল হয়েছেন, যা প্রায় ৮৯ শতাংশ সাফল্যের হার। অন্যদিকে হালান্ড ৬৭টি পেনাল্টির মধ্যে ৫৭টি গোল করে প্রায় ৮৫ শতাংশ সাফল্য ধরে রেখেছেন। ফলে স্পট কিকের লড়াই হলেও দুই দলেরই আস্থা থাকবে তাদের দুই মহাতারকার ওপর।

এনএনবাংলা/