




ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে গোল হজমের পাশাপাশি লিওনেল মেসির পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল খেয়ে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা। তবে শেষ ১৪ মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে মিশর। ২১ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। এর কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেলেও মেসির নেওয়া পেনাল্টি অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। ফলে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে মিশর।
দ্বিতীয়ার্ধেও বলের দখলে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। তবে সুসংগঠিত রক্ষণে তাদের আক্রমণ বারবার প্রতিহত করে মিশর। ৫৮ মিনিটে জিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করলেও ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন। যদিও তাতে দমে যায়নি মিশর। ৬৭ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর নিখুঁত পাস থেকে ছয় গজের বক্সের ভেতর থেকে জালে বল পাঠিয়ে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জিকো।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপে বড় ধরনের অঘটনের মুখে পড়তে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ঠিক তখনই শুরু হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন।
৭৯ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। গোলরক্ষক শোবেইর বল স্পর্শ করলেও সেটি জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি।
এর মাত্র চার মিনিট পর সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। মেসির ডান দিকের ক্রস মিশরের রক্ষণ ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে লাউতারো মার্তিনেজ বল বাড়িয়ে দেন হুলিয়ান আলভারেসকে। আলভারেসের পাস থেকে শক্তিশালী শটে জালে বল জড়িয়ে পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে ম্যাচে নিজের ছাপ রাখেন মেসি।
সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্কালোনির শিষ্যরা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে নির্ধারক গোল। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজ দারুণ এক হেডে বল জড়িয়ে দেন জালের ওপরের কোণে। সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির।
তবে গোলটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় মিশর। তাদের অভিযোগ ছিল, গোল হওয়ার আগে নিজেদের বক্সে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ফাথিকে ফাউল করেছিলেন। কিন্তু রেফারি কিংবা ভিএআর—কেউই সেই দাবি আমলে নেননি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে গোলরক্ষক শোবেইর হলুদ কার্ড দেখেন। এ সময় মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্য মাঠে প্রবেশ করায় তাকে লাল কার্ডও দেখানো হয়।
শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেনি মিশর। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দাশ্রুতে ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে হতাশায় মাঠ ছাড়েন মোহাম্মদ সালাহ ও তার সতীর্থরা।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ১৪ মিনিটের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় কামব্যাক হিসেবে স্থান করে নিল।
এনএনবাংলা/
Tags: ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপআর্জেন্টিনাকোয়ার্টার ফাইনাললিওনেল মেসি
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন