Skip to content

Upcoming
Portugal
0-0
Spain
Source: ESPN

ব্রাজিল কি ‘ইউরোপের ভূত’ তাড়িয়ে হেক্সা স্বপ্ন বাঁচাতে পারবে

ছবি: টুইটার

আজ রাতের ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি শুধু একটি শেষ ষোলোর লড়াই নয়, বরং ব্রাজিলের জন্য এটি বহু বছরের এক মানসিক বাধা ভাঙারও পরীক্ষা।

২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বারবার হতাশ হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে বেলজিয়াম এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিদায় নিতে হয়েছে ব্রাজিলকে। সেই কারণেই ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ এখন সেলেসাওদের কাছে এক ধরনের ‘ভূত’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবার সেই বাধা হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে নরওয়ে। বিশ্বকাপে কখনো শেষ ষোলো পেরোতে না পারলেও দলটিকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে এবারের ব্রাজিল আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে আক্রমণ ও রক্ষণ— দুই বিভাগেই শক্তিশালী একটি দল গড়ে উঠেছে। আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়া। তাদের লক্ষ্য একটাই— দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় বাধা ভেঙে হেক্সা মিশনকে এগিয়ে নেওয়া।

রক্ষণভাগেও রয়েছে আস্থা। গাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও মার্কিনিওসের অভিজ্ঞ জুটি প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে প্রস্তুত। তবে মাঝমাঠে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না লুকাস পাকেতা। যদিও কাসেমিরো জাপানের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে নিজের ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অন্যদিকে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হলান্ড। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই স্ট্রাইকার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। তার সঙ্গে আক্রমণে থাকবেন আলেক্সান্দার সরলথ। কোচ স্তালে সোলবাকেনও জানেন, ব্রাজিলকে হারাতে পারলে সেটিই হবে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন।

পরিসংখ্যানও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের চারটি মুখোমুখি লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত একবারও জিততে পারেনি ব্রাজিল। নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি দুটি হয়েছে ড্র। বিশ্বকাপে একমাত্র দেখাতেও ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল নরওয়ে।

তাই আজকের ম্যাচে শুধু শেষ আটে ওঠার লড়াই নয়, ব্রাজিলের সামনে রয়েছে ২৮ বছরের পুরোনো হিসাব চুকানোর সুযোগও। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে শক্তির পাশাপাশি কৌশলগত লড়াইটাও হবে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিল কি অবশেষে ইউরোপীয় অভিশাপ কাটিয়ে হেক্সা মিশনের পথে আরও এক ধাপ এগোতে পারে, নাকি ভাইকিংসদের উদযাপনই আরও একবার থামিয়ে দেবে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। উত্তর মিলবে আজ রাতেই।

এনএনবাংলা/