Skip to content

Upcoming
Portugal
0-0
Spain
Source: ESPN

ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

ব্রাজিল বিশ্বকাপে এসেছিল বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ মিশন সফল করার লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব পার করে সেলেসাওরা। এরপর শেষ বত্রিশে জাপানকে পরাজিত করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট আর কাটা হয়নি। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে থেমে যায় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের বিশ্বকাপ অভিযান।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আর্লিং হলান্ডের গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে নরওয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তারকা স্ট্রাইকার। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে নেইমার জুনিয়র একটি গোল শোধ দিলেও পরাজয় এড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। হলান্ডের জোড়া গোলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে নরওয়ে।

শুরু থেকেই ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই জালের দেখা পেয়েছিল তারা। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হওয়ায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় ব্রাজিল।

এরপর ম্যাচের অষ্টম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ গড়ে তোলে ব্রাজিল। সেই আক্রমণ ঠেকাতে নিজেদের বক্সে মাথেউস কুনিয়াকে ফাউল করেন নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়ের। প্রথমে রেফারি পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর স্পটকিকের সিদ্ধান্ত আসে।

পেনাল্টি নিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পরিবর্তে এগিয়ে আসেন ব্রুনো গিমারেস। কিন্তু তাঁর নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। ফলে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল।

২৩ মিনিটে আবারও গোলের দারুণ সুযোগ পান কুনিয়া। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারায় সেই সুযোগও নষ্ট হয়। হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

বিরতির আগে আবারও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলির কাছ থেকে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও নিল্যান্ডের দুর্দান্ত সেভে হতাশ হতে হয় সেলেসাওদের। ৩৭ মিনিটে নরওয়ের হয়ে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হলান্ড। দুই মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শক্তিশালী শটও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন নিল্যান্ড।

প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল নরওয়ে। হলান্ড শট নিতে না পারলেও বল চলে যায় মার্টিন ওডেগার্ডের কাছে। তবে তাঁর শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন অ্যালিসন বেকার।

বিরতির পর নরওয়ে দুটি পরিবর্তন আনে। আলেক্সান্দার সরলথ ও আন্তোনিও নুসার জায়গায় মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। পরে এই শেলদেরুপই দুই গোলের অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার বদলে মাঠে নামেন এন্দ্রিক। মাঠে নেমেই ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোলের সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও সফল হতে পারেননি। এরপর রায়ানের নেওয়া দুর্দান্ত শটও ফিরিয়ে দেন নিল্যান্ড। পুরো ম্যাচজুড়েই ব্রাজিলের আক্রমণ বারবার ব্যর্থ করে দেন নরওয়ের এই গোলরক্ষক।

শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিটে শেলদেরুপের দারুণ এক ক্রস থেকে হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হলান্ড। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। নেইমার, ভিনিসিয়ুসরা একের পর এক আক্রমণ চালালেও নিল্যান্ডের দৃঢ়তায় সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

এরপর ৯০ মিনিটে আবারও শেলদেরুপের পাস থেকে গোল করেন হলান্ড। তাঁর জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে এবং কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রাজিলের বিদায়।

নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সাত মিনিট যোগ করা হয়। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার জুনিয়র। তবে সেটি শুধুই সান্ত্বনার গোল হয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের পরাজয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।

এনএনবাংলা/