সাম্প্রতিক
জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরের, বললেন ‘সুযোগ দিলে ভয়ংকর বিপর্যয়’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও প্রত্যাহার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের ডিম–মুরগির-সবজির দাম বাড়তি, বাজারে হাঁসফাঁস ক্রেতার ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে ঢাকা, কী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ‘ক্রেজি পিল’ ইয়াবায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বাড়ছে আসক্তির ঝুঁকি রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরার ‘অদৃশ্য চোখ’, কোন অপরাধে কত জরিমানা হোটেল রুম নোংরা ও জরিমানার অভিযোগ, জেমসের দাবি—‘এটা কোনো বিষয়ই না’ আর্জেন্টিনার পারেদেস ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ, আরও যারা শাস্তি পেলেন
Skip to content

মিশরের বিপক্ষেই ২১ বছর আগে ইতিহাস লেখা শুরু করেছিলেন মেসি

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আজ মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। কারণ, ঠিক ২১ বছর আগে এই মিশরের বিপক্ষেই বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। আর সেই ম্যাচেই করেছিলেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল, যা পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি এক ক্যারিয়ারের সূচনালগ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির অভিষেক হয়েছিল ২০০৪ সালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। তবে ২০০৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বড় মাইলফলক। প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল করে নিজের প্রতিভার জানান দেন তিনি এবং দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন।

অবশ্য সেই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার শুরুটা ছিল হতাশার। প্রথম ম্যাচে তারা ১-০ গোলে হেরে যায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলার ছিলেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে মেজর লিগ সকারে অভিষেক হওয়া ফ্রেডি আডু, যাকে অনেকেই ভবিষ্যতের ‘নতুন পেলে’ হিসেবে দেখছিলেন। অন্যদিকে বার্সেলোনায় খেলা শুরু করলেও মেসি তখনও ছিলেন নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় থাকা এক উদীয়মান প্রতিভা। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেও ম্যাচের ফল বদলাতে পারেননি তিনি।

তবে দ্বিতীয় ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের পূর্ণ প্রমাণ দেন মেসি। ম্যাচের ৪৭তম মিনিটে হুলিও বারোশোর ক্রস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। পরে পাবলো জাবালেতার আরেকটি গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। সেই জয়ই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি গড়ে দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে কোচ মেসিকে তুলে লুকাস বিগলিয়াকে মাঠে নামান।

মিশরের বিপক্ষে প্রথম গোলের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মেসিকে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি ছয় গোল করেন এবং জিতে নেন সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি গোল্ডেন বুট। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হিসেবে তার হাতে ওঠে গোল্ডেন বলও। ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি গোল করে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিশরের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই আজকের এই লড়াই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই নয়, এটি মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক ঐতিহাসিক সূচনার স্মৃতিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

এনএনবাংলা/