Skip to content

Upcoming
Argentina
0-0
Egypt
Source: ESPN

এটাই ফুটবল, একজন ফুটবলারের জীবন এমনই: রোনালদো

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বীকার করেছেন, তিনি ক্যারিয়ারের শেষ ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন। তবে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর বা ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চান না।

পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের ২৩ বছর পর ডালাসে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলের পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। অধিনায়ক রোনালদোর ২৩৩তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বিষাদময় বিদায়ে পরিণত হয়। তবে ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েই বিশ্বকাপের মঞ্চকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর রোনালদো বলেন, শান্ত মন ও তৃপ্তি নিয়েই তিনি বিদায় নিচ্ছেন। তার মতে, ২০১৬ সালে পর্তুগালের হয়ে জেতা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপাই তার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান মর্যাদার।

ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, “এভাবে বিদায় নেওয়াটা দুঃখজনক, তবে আমি আমার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি একদম পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। এটাই ফুটবল, একজন ফুটবলারের জীবন এমনই। কখনো আপনি জিতবেন, কখনো হারবেন। আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে ক্যারিয়ারের বাকি অংশ নিয়ে ভাবার জন্য অনেক সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। আবেগে বা তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যেভাবে ঘুম থেকে উঠেছি, আগামীকালও ঠিক সেভাবেই জাগব। মনে কোনো অনুশোচনা থাকবে না। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানোর আগে পর্তুগাল কখনো বড় কোনো ট্রফি জেতেনি। জাতীয় দলের হয়ে আমার জেতা সেরা ট্রফি ছিল ২০১৬ সালের ইউরো, যা আমার কাছে বিশ্বকাপের সমান। তাই আমি পরিচ্ছন্ন বিবেক নিয়েই যাচ্ছি। আগামীকাল আরেকটি নতুন দিন আসবে এবং জীবন তার নিয়মে চলবে।”

স্পেনের বিপক্ষে প্রত্যাশামাফিক পারফরম্যান্স না করলেও রোনালদোর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তিনি বলেন, “আমি তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি অনুকরণীয় একজন অধিনায়ক। আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। কিন্তু শুধু গোলের সংখ্যাই নয়, কাউন্টার-অ্যাটাকেও রোনালদো অনন্য। তিনি ফুটবলের একজন আইকন, তার মতো ফুটবলার খুব বেশি নেই।”

রোনালদোকে পুরো ম্যাচ মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, “দলের যখন গোলের প্রয়োজন, তখন রোনালদোর মতো খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া যায় না। খোলা জায়গায় কিংবা ডি-বক্সের ভেতরে যেকোনো বলের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে আমরা গনজালো রামোসের এনার্জি কাজে লাগাতে পারতাম। কিন্তু দলের মূল কাঠামো ধরে রাখা জরুরি ছিল। সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড এবং দলের সেরা গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার মতো সময় সেটি ছিল না।”

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগালের কোচ হিসেবে রবার্তো মার্তিনেসের অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটেছে। তবে বিদায়ের মুহূর্তেও হতাশার চেয়ে গর্বই বেশি অনুভব করছেন তিনি।

মার্তিনেস বলেন, “আমি হতাশ নই, বরং গর্বিত। আমরা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলের সঙ্গে সমানে সমানে লড়েছি। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। সেই যাত্রা নিয়েই আমি গর্বিত।”

এনএনবাংলা/

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান