Skip to content

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৯ মে) সকালে স্থানীয়রা একটি ভাড়া বাসার ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন শিশু, এক নারী ও এক যুবকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতের কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতরা হলেন—শারমিন বেগম (৩২), তার ভাই রসুল মিয়া (২২), এবং তিন মেয়ে মীম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তারা মূলত গোপালগঞ্জ থেকে জীবিকার সন্ধানে এসে কাপাসিয়ার রাউৎকোন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে শারমিনের স্বামী ফুরকান মিয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভোরের দিকে তিনি নিহতদের স্বজনদের ফোন করে হত্যার বিষয়টি জানান বলে জানা গেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ বলেন, পরিবারটিতে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তবে ফুরকান এত ভয়াবহ ঘটনা ঘটাতে পারেন, তা কেউ কল্পনাও করেননি। তিনি আরও বলেন, তিনটি নিষ্পাপ শিশুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

প্রতিবেশী জাহানারা আক্তার জানান, ঘটনার আগের বিকেলেও শিশুদের বাড়ির উঠোনে খেলতে দেখা গেছে। সকালে মানুষের চিৎকার শুনে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহ দেখতে পান।

কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গৃহকর্তা ফুরকান মিয়াকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ