Skip to content

এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০, আহত ১২৬৮ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

দেশে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৬৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৪২ জনের, আহত হয়েছেন আরও ১২৪ জন। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মোট সড়ক দুর্ঘটনার ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এসব ঘটনায় মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং আহতের ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগ-এ। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন এবং আহত হয়েছেন ২৬৩ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগ-এ। এ বিভাগে ১৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৪ জন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৮০৫টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ২১ দশমিক ৮৬ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল এবং ২৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছিল ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি। এছাড়া ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ ছিল বাস। দুর্ঘটনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নছিমন-করিমন, ট্রাক্টর ও মাইক্রোবাসও জড়িত ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। এছাড়া ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা হয়েছে গাড়িচাপা বা ধাক্কার কারণে এবং ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায়। বাকি দুর্ঘটনাগুলো অন্যান্য কারণে ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, পর্যাপ্ত রোড সাইন ও আলোর অভাব, নির্মাণ ত্রুটি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, উল্টো পথে চলাচল এবং অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরি, মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, রোড সাইন ও ফুটপাত নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এ বিষয়ে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহন খাত পরিচালনার বর্তমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ খাত পরিচালিত হলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যাত্রী দুর্ভোগ কমানো এবং প্রতিবছরের প্রাণহানি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন সরকারকে পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

এনএনবাংলা/পিএইচ