রাষ্ট্রপতির লন্ডন সফর, সরকারের ব্যয় সংকোচনের মধ্যে বিলাসবহুল যাত্রা

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি লন্ডনে গিয়েছেন। সেখানে তিনি ৯ দিন থাকবেন। এই সময়টাতে বিভিন্ন শারীরিক চেকআপ করাবেন। এর আগে সিঙ্গাপুরে তাঁর একটি ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল, এটি মূলত সেটিরই একটি ফলো-আপ চেকআপ।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির এই সফরে তাঁর সাথে ২২ জনের একটি প্রতিনিধি দল লন্ডনে গিয়েছেন। যদিও বাংলাদেশেই বর্তমানে প্রতিদিন সফল ওপেন হার্ট সার্জারি হচ্ছে। তিনি যে রুটিন চেকআপের জন্য গিয়েছেন, তা বাংলাদেশেই সম্ভব ছিল। দেশে প্রতিদিন প্রায় ১০০টির মতো বাইপাস সার্জারি হয় এবং এর সাফল্যের হার প্রায় ৯৮%। লন্ডনেও বাইপাস সার্জারির সাফল্যের হার প্রায় একই (৯৭-৯৮%)।
রাষ্ট্রপতির লন্ডন সফরের সম্ভাব্য খরচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিমান ভাড়া প্রতিজনে ২ লাখ টাকা করে ধরলে ২২ জনের জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা। সেন্ট্রাল লন্ডনের ‘হিলটন অন পার্ক লেন’ হোটেলে প্রতি রাতের ভাড়া কমপক্ষে ৩০০ পাউন্ড। এবং ‘বেডফোর্ড লজ’ হোটেলে ৩ দিন অবস্থানের জন্য জনপ্রতি প্রায় ২২০ পাউন্ড খরচ হতে পারে। সব মিলিয়ে এই সফরে প্রায় ২ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের নীতির মধ্যে এই বিপুল খরচ নিয়ে জনমনে ইতোমধ্যে প্রশ্ন জেগেছে। অনেকেই বলছেন, সরকার কি আদৌ কৃচ্ছ্রসাধনের নীতিতে আছে, না কি পুরোটাই লোক দেখানো।
রাষ্ট্রপতির সাথে তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং এমনকি দুই নাতিও এই সফরে গিয়েছেন। দেশের মানুষের পাঠানো রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রার এমন ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
এনএনবাংলা/
