




মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেও তেহরান অন্তত চার মাস অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে বলে জানিয়েছে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন। কঠোর নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান এখনো তার অর্থনীতি সচল রাখতে সক্ষম বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, এই অবরোধ ইরানকে দ্রুত আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারছে না। বরং তেহরান সীমিত পরিসরে হলেও তার বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
এদিকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। সেখানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC) কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন জাহাজ হামলা ও বাধার মুখে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে ফেলতে পারবে না। তবে অন্য একটি গোয়েন্দা সূত্রের মতে, নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই ইরানের অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও সংকটময় হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ একসঙ্গে চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি ও একটি চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং দ্রুত জবাব চেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, যখনই কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ বাড়িয়ে দেয়, যা তিনি “পেছন থেকে ছুরি মারা” হিসেবে অভিহিত করেন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন ও অস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার মধ্যে চীন ও হংকংয়ের কিছু প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সব মিলিয়ে সামরিক সংঘাত, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন—তিন দিকেই উত্তেজনা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে।
এনএনবাংলা/
Tags: Hormuz Strait crisisIran sanctionsIran-US conflictMiddle East tension 2026Reuters Iran report
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন