দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, কোথাও তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বলে মনে করছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানে অতিরিক্ত গরমজনিত কারণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে হিটস্ট্রোক ও তাপজনিত অসুস্থতায় একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, বর্ষা-পূর্ব বৃষ্টির ঘাটতি এবং এল নিনো পরিস্থিতির কারণে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে গরম বাতাস নিচের স্তরে আটকে থাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে এবং মেঘ তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও গুজরাটে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের আকোলা শহরে সর্বোচ্চ ৪৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

পাকিস্তানে গরমে শরীর শীতল করার চেষ্টা করছেন এক ব্যক্তি। ফাইল ছবি: বিবিসি
পাকিস্তানের করাচিতে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ নাগরিকদের দিনের বেলায় অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশেও তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে দেশে ২৪ দিন তাপপ্রবাহ ছিল—যা গত ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুরে তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
জলবায়ু গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ এখন আর সাময়িক ঘটনা নয়; এটি ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অতিরিক্ত গরমে কাজের সময় কমে যাওয়ায় তাদের আয় কমছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘনঘন ও তীব্র হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার, কার্যকর নগর পরিকল্পনা, শ্রমিক সুরক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং তাপসহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এনএনবাংলা/
