সাম্প্রতিক
তেল-চিনি ও ডিমের বাড়তি দামে নাজেহাল ক্রেতা শাহজালালের বিমানবন্দরের ইডিকে হুমকি: জামায়াতের আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, আটক ৭০০ ১০ কোটি ব্যারেল তেল-ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জি-৭ দেশগুলোর অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার ‘পথিকৃৎ’ হারালাম, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস কী, ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন হাসনাতের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি বেড়েছে ৬ শতাংশের বেশি ডেঙ্গুতে ৯ মাসে প্রাণ গেল ২৫০ জনের মধ্যপ্রাচ্যের পথে নতুন রণতরী, ১০ হাজার মার্কিন সেনা: ইরান যুদ্ধ কি আরও তীব্র হচ্ছে? অক্টোবরে বৃষ্টি কমবে, কমবে তাপমাত্রাও; তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা
Skip to content

দেড়যুগ ধরে শিকলবন্দি বনলতা! অর্থের অভাবে মিলছে না চিকিৎসা

Oplus_131072

শৈশবে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠেছিল বনলতা হালদার (৩৫)। তবে কৈশোরে পা দিতেই হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর প্রতিবেশীদের নানা অভিযোগ আর নিরাপত্তার অজুহাতে দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় কাটছে তার জীবন। বনলতা হালদার মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের মৃত কার্তিক হালদারের মেয়ে। অভাবের সংসারে মা ও দুই ভাই অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চরম দারিদ্র্যের কারণে বনলতার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার।

শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বনলতার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এর আগে পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী ও মেধাবী ছিলেন তিনি। বাবা বেঁচে থাকতে সাধ্যমতো চিকিৎসা করালে কিছুদিন সুস্থ ছিলেন তিনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর সংসারে তীব্র আর্থিক সংকট দেখা দেয়ার ফলে বন্ধ হয়ে যায় তার সমস্ত চিকিৎসা সেবা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে বনলতাকে বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টি বা ঝড়—সবকিছু উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা, এমনকি কখনো সারারাত তাকে গাছের সঙ্গেই বন্দি থাকতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে নিয়মিত খাবারও জোটে না তার কপালে। এভাবেই অমানবিক ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বনলতার বড় ভাই মিন্টু হালদার বলেন, “আমার বোনের ১৮ বছর বয়স থেকে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন সে প্রায় উন্মাদ। মানুষ দেখলে গালিগালাজ করে বলে বাধ্য হয়ে শিকলে বেঁধে রাখতে হয়। অন্যের জমিতে কাজ করে কোনোমতে আমাদের সংসার চলে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে হয়তো বোনটাকে সুস্থ করতে পারতাম।

নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ইতিমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে। ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা এ বিষয়ে বলেন, “বনলতা হালদার নামের ওই নারীর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। সমাজসেবা অফিস থেকে তাকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও খোঁজখবর নিচ্ছি। পরিবারের সম্মতি থাকলে সরকারিভাবে তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।