রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা
ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের বার্তা নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ‘কোরবানির ঈদ’ হিসেবে পরিচিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সব প্রস্তুতি।
ঈদের দিন সকালে দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহার জামাত। মুসল্লিরা দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন এবং খুতবায় কোরবানির তাৎপর্য ও ইসলামের ত্যাগের আদর্শ তুলে ধরা হবে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে দেশের প্রধান ঈদের জামাত। সেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। ঈদ জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ঈদ উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে বিশেষ খাবার পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঈদের নামাজ শেষে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন। সেই স্মৃতিতেই ইসলামে কোরবানির বিধান চালু হয়।
ঈদুল আজহার সঙ্গে পবিত্র হজের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরবে ইতোমধ্যে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে এবং হাজিরা আরাফাত, মুজদালিফা ও মিনায় হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে দীর্ঘ ছুটি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও ডাকসেবাসহ জরুরি সেবা চালু থাকবে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সব সিএনজি ও ফিলিং স্টেশন খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী হয়রানি বা ভোগান্তির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এনএনবাংলা/
