Skip to content

Upcoming
France
0-0
Spain
Source: ESPN

ভারতেই কি জুলাই গণহত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের নিরাপদ আস্তানা?

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমন করতে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আবু সাঈদ, আনাসসহ ছয়টি হত্যা মামলার রায়ে দণ্ডিতদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে পলাতক। তাদের একটি বড় অংশ ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সরকারের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি ‘সেইফ হোমে’ অবস্থান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কোনো নিরাপদ স্থাপনা।

একইভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কলকাতার অভিজাত নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন বলে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কলকাতার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতেও তাকে দেখা গেছে তাকে। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়ার যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়াও ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক বাকি সাতজনই পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান কলকাতায় অবস্থান করছেন। এছাড়া সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার রাশেদুল ইসলাম ও শাহ আলম আখতারুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান এবং সাভারের সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদও ভারতে রয়েছেন। তবে তারা ভারতের ঠিক কোন এলাকায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ পুলিশ সদস্যের মধ্যে আটজন পলাতক। এর মধ্যে ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম ইউরোপে, ঢাকার সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান রিপন অস্ট্রেলিয়ায় এবং সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান ভারতে অবস্থান করছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। বিদেশে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সবাই তো আর শেখ হাসিনা না। সবাইকে তো আর ভারত কোলে-পিঠে করে সারা জীবন রাখতে পারবে না। কোনো না কোনো সময় এই আসামিদের ধরা পড়তেই হবে এবং সেদিনই সাজা কার্যকর করা হবে।’

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, বিদেশে অবস্থানকারী আসামিদের গ্রেপ্তার বা দেশে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব প্রসিকিউশনের নয়; এটি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্ব।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, শুধু ভারতেই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর নিষিদ্ধ অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৪৫ হাজার নেতাকর্মী অবস্থান করছেন। এছাড়া ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনীতিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক সদস্যদের একটি অংশ অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, নেতৃত্বস্থানীয় অনেক পলাতক আসামি পরিবার-পরিজনসহ ভারত ও অন্যান্য দেশে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভারতীয় পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করেছেন। মাঝেমধ্যে রেস্টুরেন্টে ছোট-খাটো অনুষ্ঠানও করছেন তারা।

এনএনবাংলা/