Skip to content

Upcoming
Norway
0-0
England
Source: ESPN

বসুন্ধরা, এস আলমসহ ১০ শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মামলা করছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

দেশের শীর্ষ ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি যৌথ তদন্ত দল।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক গ্রুপের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান থাকায় ভবিষ্যতে এই তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে তদন্তের আওতায় থাকা ১০টি শিল্পগোষ্ঠী হলো— এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার ও আরামিট গ্রুপ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠান নয়, এসব গ্রুপের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনও বিশেষ অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া কৌশলগত কারণে নাম প্রকাশ না করা আরও একটি গ্রুপের বিরুদ্ধেও মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) মামলার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে গত ৬ জানুয়ারি যৌথ তদন্তের রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আপাতত মোট ১১টি করপোরেট গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিএফআইইউকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধান চলমান থাকায় ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো অনুসন্ধান কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে বিএফআইইউ। মাঠপর্যায়ের তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুরো প্রক্রিয়ায় আইনি সহায়তা দিচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের যৌথ তদন্তে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র আদালতে উপস্থাপনের মাধ্যমে দ্রুতই দেওয়ানি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সূত্র আরও জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন অনুসরণ করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে প্রতিটি গ্রুপের ফাইল পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল ঋণ গ্রহণ, কর ও শুল্ক ফাঁকি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

ইতোমধ্যে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিতর্কিত এসব শিল্পগোষ্ঠীর অধিকাংশের ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং অভ্যন্তরীণ অর্থের প্রবাহও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু দেশেই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের কাছেও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি মাসরুর আরেফিন বলেন, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আশাবাদী, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এনএনবাংলা/