




রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অবৈধ পার্কিং এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার কারণে তীব্র যানজট ও ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।
বিশেষ করে মহাখালী, ফুলবাড়িয়া ও গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এ অবস্থায় টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জোরালো হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু স্থানান্তর নয়, প্রয়োজন আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা।
মহাখালী টার্মিনালের বাইরে শত শত বাসের পার্কিং
মহাখালী বাস টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে মহাখালী পর্যন্ত প্রধান সড়কে শত শত বাস পার্কিং করে রাখা হয়। একইসঙ্গে কাউন্টারের পরিবর্তে রাস্তা থেকেই যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। ফলে বনানী থেকে বিমানবন্দর মহাসড়ক পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং লাখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও অনেক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক তা উপেক্ষা করছেন।

ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল ঘিরে দিনরাত অরাজকতা
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল ঘিরেও একই চিত্র দেখা যায়। গোলাপশাহ মাজার থেকে বংশাল হয়ে তাঁতীবাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বাস পার্কিং করা হয়। টার্মিনালের অভ্যন্তরে জায়গার সংকট এবং অধিকাংশ পরিবহন কোম্পানির নিজস্ব পার্কিং সুবিধা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এলাকাটিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
টার্মিনাল সরানোর পরিকল্পনা সরকারের
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়, ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী টার্মিনাল পূর্বাচলে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও সরকারি জমি উন্নয়নের কাজও চলছে।

বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন: শুধু স্থানান্তরেই কি সমাধান?
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, শুধু টার্মিনাল সরিয়ে নিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তিনি বলেন, শহরের ভেতরে টিকিট কাউন্টার ও যাত্রী ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করা গেলে যাত্রীরা নির্ধারিত টার্মিনাল থেকেই বাসে উঠতে পারবেন। অন্যথায় শহরতলিতে যাত্রী নামানোর পর তাদের শহরে প্রবেশের জন্য নতুন করে পরিবহন সংকট ও ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো নগরীর বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০২১ সালে। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
এনএনবাংলা/
Tags: Bus Terminal Dhakaঅবৈধ পার্কিংঢাকা বাস টার্মিনালঢাকা যানজটবাস টার্মিনাল স্থানান্তর
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন