সাম্প্রতিক
নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা: সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার মিরপুরে হামলা-অগ্নিসংযোগের কাজ ‘ফ্যাসিজমের দোসরদের’: ডিএনসিসি প্রশাসক আপস মীমাংসায় প্রথম স্ত্রীর জামিন, গাজী নজরুলের জামিনেও বাদীর আপত্তি নেই কানাডা থেকে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি বহিষ্কার, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জাতিসংঘে জাইমার নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: এমপি মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না এলপিজিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা, ডিসিদের নির্দেশ গরম বাড়তেই আবারও বেড়েছে লোডশেডিং
Skip to content

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান, ‘৩৬ জুলাই’ বাংলাদেশের রক্তাক্ত ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় চব্বিশের জুলাই আন্দোলন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি সৃষ্টি করে এক নতুন অধ্যায়ের। শহীদদের রক্তের ঋণ বুকে ধারণ করে আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান করেন। শেষ পর্যন্ত পতন ঘটে আওয়ামী শাসনের। ফলে চব্বিশের জুলাই আন্দোলন রক্তাক্ত স্মৃতি ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে ‘৩৬ জুলাই’ নামেও অম্লান হয়ে আছে।

জুলাই মানেই লাল হয়ে ওঠা স্মৃতি, গণবিদ্রোহ আর প্রতিদিনের মৃত্যুমিছিল। ‘হয়তো মুক্তি, নয়তো মৃত্যু’—এই প্রত্যয়ে আন্দোলন এগিয়ে চলে। সেই আন্দোলনের দীর্ঘ ৩৬ দিনই ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

শুরুর দিকে চাকরিপ্রত্যাশীদের এই আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। দেশজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রায় ২০ দিনের মাথায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নৃশংসতায় বহু তরুণ প্রাণ ঝরে যায়। রক্তাক্ত সেই অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের।

আন্দোলনকারীদের ঘোষণা ছিল, রক্তিম জুলাইতেই শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত করা হবে। সে কারণেই ৩১ জুলাইয়ের পর থেকে তারা নতুনভাবে দিন গণনা শুরু করেন। সেই হিসাব অনুযায়ী সরকার পতনের দিনটি ইতিহাসে ‘জুলাই ৩৬’ নামে পরিচিতি পায়।

এর আগে আন্দোলনের বড় মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে ধরা হয় ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে। এরপর আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্ল্যাকআউট, দেশব্যাপী কারফিউ, ‘দেখামাত্র গুলি’র নির্দেশ এবং ইন্টারনেট বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে চলে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ।

আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের হামলায় জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং ২০ হাজারের বেশি আহত হন। ব্যাপক প্রাণহানির প্রতিবাদে আগস্টের শুরুতে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি শুরু হয়। একপর্যায়ে জনরোষের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হন পতিত সরকারের প্রধান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের কবর জিয়ারত, স্মরণসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এনএনবাংলা/