গ্যাসের সংকট ‘কয়েক দিনের মধ্যে অনেকাংশে’ কমে আসবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশে চলমান গ্যাস সংকট আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার ঢাকা-১৭ আসনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে মহানগর, শহর, উপজেলা ও জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুতের পাশাপাশি সিএনজি ও এলপিজি নিয়েও সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের চাহিদার বড় একটি অংশের গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। জাহাজে করে আনা এই গ্যাস সংরক্ষণের জন্য দেশে মাত্র দুটি স্টোরেজ ব্যবস্থা রয়েছে। গত ১৫ বছরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার এই ব্যবস্থা এমনভাবে করেছে, যাতে তাদের লোকজন সুবিধা পায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুটি ভাসমান গ্যাস টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটায় সাম্প্রতিক গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কারিগরি ত্রুটি সারানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, “সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুতের জন্য যে কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহাখালীর ওয়্যারলেস টিএন্ডটি মাঠে দুস্থ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৭ আসনের ৬৮১ জনের হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
‘ফ্যাসিবাদের মতো ওরাও আওয়াজ তুলছে’
আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিএনপি সরকারকে শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলেছিল আওয়ামী লীগ। বর্তমানে একই ধরনের আওয়াজ আবারও কিছু রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সদস্য ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। এ সময় তাদের সামনে হারিকেন থাকলেও পেছনে ফ্যান চলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি তাদের হঠকারিতার উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা তাদের বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা গ্যাসের জন্য তৃতীয় ভাসমান জাহাজ আনার অনুমতি বাতিল করেছিলেন। এখন নতুন করে সবকিছু যাচাই-বাছাই করে এগোতে হচ্ছে। তৃতীয় জাহাজটি এলে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিরোধীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সমালোচনা করা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকলে তারা নিজেদের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরুন।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা যদি আগামী তিন মাসের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে, তাহলে সরকার সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কেউ এসব কথা বললে তাদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, একজন রাজনীতিকের দায়িত্ব শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করা নয়, বরং জনগণকে সঠিক পথ দেখানো।
তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তি, মিথ্যা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সড়কে বসে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা তৈরির রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘জনগণের জন্য কাজ করুন’
সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু বাস্তবে কাজ করা কঠিন—এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশান লেক পরিষ্কার করতেই ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তাই শুধু বক্তব্য না দিয়ে বাস্তব কাজে নামার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “যদি মুরোদ থাকে, আসেন শার্টের হাত গুটিয়ে, স্যান্ডেল পরে। মাঠে নামুন। মানুষের জন্য কাজ করুন; দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন।”
যারা বর্তমানে বড় গলায় ও বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন, তারা গত ১৭ বছরে রাজপথে জনগণের পাশে ছিলেন না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
এনএনবাংলা/
