মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনো রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এই অধিবেশন বসবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভা—উভয় জায়গা থেকেই পদত্যাগ করতে হবে। ফলে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। ফলে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির মধ্যে আলোচনা চলছিল। শুরুতে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই এগিয়ে রাখছেন দলের নেতারা। তবে বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য জানান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা—এমন বৈশিষ্ট্যের একজনকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করতে চায় বিএনপি। সেই বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে মনে করছেন দলের নেতারা।
এনএনবাংলা/
