সাম্প্রতিক
Skip to content

নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলি, পুলিশসহ আহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনায় এক মাদক কারবারি ও তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে নগরীর ইসদাইর রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক দুজন হলেন—ইসদাইর এলাকার রাজ্জাকের ছেলে জসিম (২৪) এবং আব্দুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)। এর মধ্যে জসিমের পায়ে গুলি লেগেছে। তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে গুলিভর্তি একটি পিস্তলও জব্দ করেছে পুলিশ।

এদিকে মাদক কারবারিদের ছোড়া ইট-পাটকেল এবং তাদের ধরতে ধাওয়া করার সময় ফতুল্লা থানার এসআই মো. রফিক, বন্ধন চন্দ্র সরকার ও কনস্টেবল রাশেদুল আহত হন। তাদেরও নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অপু কুমার সাহা জানান, বেলা পৌনে ৪টার দিকে জসিমকে হাসপাতালে আনা হয়। তার পায়ে দুটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাত দুটি গুলির বলে জানানো হয়েছে। গুলি ভেতরে রয়েছে কি না, তা জানতে তাকে এক্স-রে করতে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিদের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের ইসদাইর এলাকায় অবস্থান করে গোলাগুলি করছে—এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মাদক কারবারিরা গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসদাইর এলাকায় মাদক ব্যবসা ও কিশোর অপরাধী দল নিয়ন্ত্রণ করেন রাজ্জাক এবং তার দুই ছেলে জসিম ও ওয়াসিম। গত এপ্রিল মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ রাজ্জাক ও তার ছোট ছেলে মো. ওয়াসিমকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। এর কয়েক দিন আগে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ জসিমকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে বাবা ও দুই ছেলে জামিনে বেরিয়ে এসে এলাকায় আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। এ নিয়ে এলাকার অপর মাদক কারবারি শাকিলের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল বলেও জানিয়েছেন একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।

এর জেরে গত ৭ আগস্ট মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চার বাসিন্দা।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ইসদাইর এলাকার মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এনএনবাংলা/