সরকারি খরচে বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা, গাড়ি কেনায়ও কড়াকড়ি

চলতি অর্থবছরেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি অর্থে বিদেশে সব ধরনের সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে সরকার। একইসঙ্গে উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় থেকে গাড়ি কেনায়ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের দেওয়া স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে। এছাড়া বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত বৈদেশিক প্রশিক্ষণেও অংশ নেওয়া যাবে।
বুধবার সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে সকল ধরনের থোক বরাদ্দ থেকে ব্যয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মোটরযান, জলযান ও আকাশযানসহ সব ধরনের যানবাহন ক্রয়ের জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দও বন্ধ থাকবে।
তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো ‘টিওঅ্যান্ডইভুক্ত’ (অনুমোদিত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম) যানবাহন প্রতিস্থাপন করা যাবে। নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘টিওঅ্যান্ডইভুক্ত’ যানবাহন কিনতে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের পরিবর্তে কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন ১০ বছরের বেশি পুরোনো হলে তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ ধরনের যানবাহন কেনার আগে অর্থ বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
তবে অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহৃত মোটরযান ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন বা নতুন কেনা জিপ কিংবা কার—যে ধরনের মোটরযানই হোক, তা অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) হতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্য যেকোনো ভবন নির্মাণও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে চলমান কোনো নির্মাণকাজ ন্যূনতম ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বাকি কাজ শেষ করার জন্য অর্থায়ন করা যাবে।
এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ও আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।
সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য দেওয়া সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম সুবিধাও চলতি অর্থবছরে বন্ধ থাকবে। তবে পরিপত্র জারির আগেই অনুমোদিত প্রকল্পে যানবাহন কেনার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকলে সেখানে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের সংরক্ষিত বরাদ্দ অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে।
এদিকে বিদেশ থেকে কোনো জটিল প্রকৃতির পণ্য আমদানির আগে বাধ্যতামূলক যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ সফর বিবেচনা করা যাবে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার’ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করলে সরকার ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমানে বিএনপি সরকারও এ নীতি বহাল রেখেছে। তবে সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এনএনবাংলা/
