Skip to content

Upcoming
Australia
0-0
Egypt
Source: ESPN

ঢাকায় আসছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস, পর্যায়ক্রমে বিদায় নেবে লক্কড়ঝক্কড় যান

চীনের তৈরি ইলেকট্রিক বাস জনপ্রিয়তা পেয়েছে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে। ছবি: সিজিটিএন নিউজ

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে ঢাকায় ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎচালিত) বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এই প্রকল্পের আওতায় ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর পুরোনো ও লক্করঝক্কর বাস সরিয়ে আধুনিক ই-বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

নগরবাসীর মতে, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে তারা বলছেন, শুধু নতুন বাস নামালেই হবে না, ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ বাস সরিয়ে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও জরুরি।

পর্যায়ক্রমে সরানো হবে পুরোনো বাস

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীতে চলাচলকারী পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ধাপে ধাপে প্রতিস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন বাস চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, একদিনে সব পুরোনো বাস সরানো সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে আধুনিক বাস চালু করা হবে। মানুষ উন্নত সেবা পেলে স্বাভাবিকভাবেই পুরোনো পরিবহন থেকে সরে আসবে।

বাজেটে ঘোষণা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর পুরোনো বাসগুলো পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।

প্রকল্পে কী থাকছে

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার জন্য তিনটি চার্জিং ডিপো নির্মাণ করা হবে। পূর্বাচলে ডিটিসিএর ১ দশমিক ৩ একর জমিতে একটি ডিপো হবে। এছাড়া ঝিলমিল এলাকায় আরেকটি ডিপো এবং কাঁচপুরে আরও একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিআরটিএর আওতায় ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তোলা হবে।

এই প্রকল্পে শুধু বাস কেনাই নয়, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস), প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানো, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ই-বাস

ইলেকট্রিক বাসগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় দরজা (অটো-ডোর), ই-টিকিটিং ব্যবস্থা এবং আধুনিক যাত্রীসেবা। কাউন্টারভিত্তিক পরিচালনা পদ্ধতি চালু হবে। প্রতিটি বাসে নির্ধারিত রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম থাকবে এবং একই কোম্পানির সব বাসের রং হবে অভিন্ন। পুরো ব্যবস্থাটি কোম্পানিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালিত হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাস্তবায়ন

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ৩৬৫ কোটি টাকা। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

যেসব সুফল মিলবে

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমবে, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে, যানজট কমবে, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ঢাকায় এখনও ১৬ হাজারের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ বাস

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে নিবন্ধিত প্রায় ৫৪ হাজার বাস ও মিনিবাসের মধ্যে ১৬ হাজার ১৯৮টি ২০ বছরের বেশি পুরোনো। অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ বাস-মিনিবাস মেয়াদোত্তীর্ণ।

তবে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কারণ প্রতিদিনই নতুন করে যানবাহনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর বাইরে ফিটনেস সনদবিহীন অনেক বাসও রাস্তায় চলাচল করছে।

যাত্রীদের মতামতও নেওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুধু বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করলেই হবে না, যাত্রীদেরও অংশীজন হিসেবে মতামত নেওয়া উচিত।

তার মতে, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এবং দক্ষ জনবল দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

নগরবাসীর প্রত্যাশা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুমোদন পাওয়া ৬৯০টি নতুন এসি বাস এখনও সড়কে নামেনি। তাই এবার সরকারের পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে রূপ নেয়—এমন প্রত্যাশাই রাজধানীবাসীর।

এনএনবাংলা/