Skip to content

সামিটে হাসিনাপুত্রের মালিকানা, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বছরে দেবেন ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদ। ছবি: সংগৃহীত

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেছেন, শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব রয়েছে। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

পোস্টটির সঙ্গে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের অংশবিশেষের একটি ডকুমেন্টও প্রকাশ করেন।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সামিট কমিউনিকেশনে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মালিকানা রয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া উভয়পক্ষের স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, জয় তার স্ত্রীকে এককালীন ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করবেন। এছাড়া ২০২৪ সাল থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত প্রতি মাসে ২০ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ওই চুক্তিতে।

নিজের পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, সাধারণত যেসব বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করেন, সেসব নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু লেখেন না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা ও তার অনুসারীদের বক্তব্য দেখে তিনি মনে করেছেন, এখনো অনেক তথ্য জনসমক্ষে আনা বাকি রয়েছে।

তিনি জানান, প্রকাশিত ডকুমেন্টটি মূলত ২২ পাতার সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের অংশবিশেষ, যেখানে মোট ৩৪৬ পাতার নথির মধ্যে মাত্র দুটি পাতা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই অংশে সামিট কমিউনিকেশনে জয়ের মালিকানার তথ্য ছাড়াও সাবেক স্ত্রীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, জয়কে বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার করে ১০ বছরে মোট ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১ জুনের মধ্যে ট্যাক্স ফ্রি আরও ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার বিষয়েও তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বলে পোস্টে দাবি করা হয়।

জুলকারনাইন সায়ের আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে যেসব শিল্পগোষ্ঠী ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হয়েছে, তাদের মধ্যে সামিট গ্রুপ অন্যতম। সেই সামিটের সঙ্গেই হাসিনাপুত্রের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব থাকার বিষয়টি স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সজীব ওয়াজেদ জয় কীভাবে উপার্জন করেছেন এবং বিভিন্ন ট্রাস্টের পেছনের অর্থের উৎস কী।

পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, পুরো ডকুমেন্টে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। সেগুলো সামনে এলে “শির উঁচু করে প্রত্যাবর্তনের” স্বপ্নের বদলে “ধরণী দ্বিধা হও” — এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনএনবাংলা/পিএইচ