Skip to content

আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিচ্ছে তালেবান

আফগানিস্তানের একটি গ্রামীণ বাড়িতে বিয়ের অপেক্ষায় থাকা ১১ বছর বয়সী গুলাম হায়দার ও ৪৪ বছর বয়সী ফয়েজ মোহাম্মদ। ছবি: জাতিসংঘ

আফগানিস্তানে নতুন একটি আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাল্যবিবাহকে কার্যত আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, এই ‘লজ্জাজনক’ আইন মেয়েশিশু ও তরুণীদের স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের পথ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (২২ মে) এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ১১ বছর বয়সের পর মেয়েদের শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জারির পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

অধিকারকর্মীরা তালেবানের এই পদক্ষেপকে আফগান নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে কম বয়সে বা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

তালেবান শাসনে বাল্যবিয়ের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নেই। নতুন এই আইন এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যেখানে কোনো নারী দাবি করলেও যে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্বামী সম্মতি না দিলে তিনি আইনি বিচ্ছেদ চাইতে পারবেন না। এমনকি স্বামী নিখোঁজ থাকলেও বা ভরণপোষণ না দিলেও নারী এককভাবে ডিভোর্সের আবেদন করতে পারবেন না।

এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে রাজধানী কাবুলে নারী অধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। আন্দোলনকারী ফাতেমা বলেন, নারীবিরোধী শত শত ডিক্রির পর এবার তালেবান বাল্যবিয়েকে আনুষ্ঠানিক আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনও (ইউনামা) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই ডিক্রি আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার হরণের আরও একটি বড় ধাপ এবং এটি আইনের মাধ্যমে নারীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যকে স্থায়ী করছে।

তবে আন্তর্জাতিক মহল ও দেশের ভেতরের সমালোচনা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান সরকার। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ইসলামিক ব্যবস্থার বিরোধিতাকারীদের বিক্ষোভে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে, আফগানিস্তান হিউম্যান রাইটস সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাল্যবিয়ের শিকার অধিকাংশ মেয়েই চরম পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি দাইকুন্দি প্রদেশে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী স্বামীর নির্যাতনে মারা যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

আফগানিস্তান ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের আব্দুল আহাদ ফারজাম বলেন, তালেবানের নতুন সংহিতা বাল্যবিয়েকে বৈধতা দিচ্ছে এবং নারীর স্বাধীন সম্মতির অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এর মাধ্যমে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং নারীদের আইনগতভাবে অধীনস্থ অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

এনএনবাংলা/