




ভেনেজুয়েলায় পাঁচ দিন আগে আঘাত হানা ভয়াবহ যমজ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস। একই সঙ্গে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ধ্বংস হয়েছে অথবা বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রদ্রিগেসের দেওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৪ জন। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শক্তিশালী যমজ ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক ২৫ জুন সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উচ্চ রেজল্যুশনের রাডার চিত্রগ্রহণকারী স্যাটেলাইট সেনটিনেল–১-এর তথ্য ব্যবহার করেছেন।
গবেষকদের ভাষ্য, এটি একটি দ্রুত ও প্রাথমিক মূল্যায়ন। স্যাটেলাইট চিত্রে ভূপৃষ্ঠে যে আকস্মিক পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, তা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মাঠপর্যায়ে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই পরিসংখ্যানকে কেবল একটি প্রাথমিক সূচক হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, সোমবার হোর্হে রদ্রিগেস জানান, সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
নাসা জানিয়েছে, দুর্যোগ-পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ও তথ্য উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে, ভয়াবহ ওই দ্বৈত ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর সোমবার সকালে আবারও শক্তিশালী একটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু পর রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরা এলাকায় এই কম্পন অনুভূত হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার উত্তর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এর আগে অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। দুর্বল হয়ে পড়া শত শত ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনএনবাংলা/
Tags: ভূমিকম্পভেনেজুয়েলা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন