সাম্প্রতিক
আগামী সপ্তাহে দুদিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তারেক রহমান রাজধানীতে অঞ্চলভিত্তিক চলবে ব্যাটারিচালিত রিকশা, থাকছে লাইসেন্স-নিবন্ধন দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশের হাসি, দুশ্চিন্তায় অস্ট্রেলিয়া গ্যাস সংকটে ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে দিল্লি যাওয়ার পর আশিয়ানের নজরুলের ব্যাগে মিলল ৩১ রাউন্ড গুলি বিএনপির ৪৮ বছরে মহাসচিব যারা, কে কতদিন দায়িত্বে ছিলেন ঋণের চাপে সরকারি বেতন দেওয়াও কঠিন হতে পারে: বিদ্যুৎমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না: নাহিদ বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড, নেতৃত্বে তীব্র কোন্দল ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ!
Skip to content

দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ

বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড, নেতৃত্বে তীব্র কোন্দল

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের একসময়ের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড বর্তমানে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কাঠামোগত সংকটে ভুগছে। প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন সংগঠনটি বিভক্ত হয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

একসময় মিশরসহ গোটা আরব বিশ্বে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা মুসলিম ব্রাদারহুড এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ে রয়েছে। সংগঠনটির এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে চিহ্নিত করেছে দ্য ইকোনমিস্ট।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে স্পষ্টতই দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত। এর একটি শিবিরের কেন্দ্র লন্ডনে এবং অন্যটির অবস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। নেতৃত্বের বৈধতা, তহবিলের নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব চলছে।

প্রবীণ নেতাদের এই ক্ষমতার লড়াই এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার অভাবে তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এর ফলে অনেকেই ধীরে ধীরে সংগঠন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০১৩ সালে মিশরের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকেই মুসলিম ব্রাদারহুড দেশটির সরকারের ধারাবাহিক ও কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আসছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন অথবা বিদেশে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে সংগঠনটি। একসময় তুরস্ক ও কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রকাশ্য সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তারা মিশর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ফলে ইস্তাম্বুল বা দোহার মতো নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থলগুলোতেও সংগঠনটির কার্যক্রম এখন মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

শুধু মিশর নয়, তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মিত্ররা ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ বলছে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারি এবং নতুন প্রজন্মের ভিন্ন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে মুসলিম ব্রাদারহুড তাদের পুরনো আবেদন হারিয়েছে।

ধারাবাহিক রাজনৈতিক ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক সমর্থন কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে মুসলিম ব্রাদারহুড আদৌ এই গভীর সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।

এনএনবাংলা/