



শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে বন্দীদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ এবং কারারক্ষীদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০০ জনেরও বেশি বন্দী ও কারারক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারাগারটিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার।
লঙ্কান সংবাদমাধ্যম আদা দেরানা জানায়, রোববার (৫ জুলাই) শুরু হওয়া এই সহিংসতা সোমবার দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত ছিল। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন কারা কর্মকর্তা এবং বাকি ২০ জন বন্দী। আহতদের অনেকের শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তাদের নেগোম্বো জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী রোববার দুপুরে কারাগারের ভেতরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী চক্রের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রথম দিনের সংঘাতে দুই বন্দী নিহত এবং আরও ৩৮ জন আহত হন।
কারা প্রশাসন শুরুতে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও সোমবার সকালে বন্দীরা আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা চালায় এবং একপর্যায়ে কারাগারের ভেতর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও লুট করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রথমে পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) মোতায়েন করা হয়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশ, বিমানবাহিনীর ড্রোন ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে পুরো কারাগার ঘিরে ফেলে এবং ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে শ্রীলঙ্কার কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ পৃথকভাবে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেছে।
উল্লেখ্য, ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দী থাকার কারণে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন কারাগারে প্রায়ই অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নেগোম্বো কারাগারেও বর্তমানে ২ হাজার ৪১৭ জন বন্দী রয়েছে, যা এর নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।
সূত্র: দ্য মিরর, আনাদোলু
এনএনবাংলা/
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন