Skip to content

বাংলাদেশ সীমান্তে ‘স্মার্ট ওয়াল’ দেবে ভারত, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া শুরু

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের টহল, পাশে কৃষিকাজ করছে কয়েকজন ভারতীয়। ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তকে সম্পূর্ণ ‘দুর্ভেদ্য’ করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট নিরাপত্তা গ্রিড’ বা ‘স্মার্ট ওয়াল’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজও শুরু করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শুক্রবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে বিএসএফ আয়োজিত বার্ষিক ‘রুস্তমজি মেমোরিয়াল বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, বিএসএফের প্রতিষ্ঠার ৬০তম বছরে ভারত সরকার ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালু করবে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তকে সম্পূর্ণ নজরদারির আওতায় আনা হবে।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন, স্মার্ট রাডার, মোশন সেন্সর, থার্মাল ও ইনফ্রারেড ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক, যা ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করবে।

ভারত ইতোমধ্যে পাকিস্তান সীমান্তের কিছু অংশে ‘স্মার্ট বর্ডার সিকিউরিটি গ্রিড’ ব্যবহার করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত ও ইউরোপের কয়েকটি দেশেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে অমিত শাহ বলেন, “সরকার দেশের প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করবে এবং ভারতের বাইরে পাঠাবে।” তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ‘কাঠামোগত পরিবর্তন’ ঠেকাতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার সীমান্তবর্তী ২৭ কিলোমিটার খাস জমি বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া এলাকায় শুক্রবার থেকে এ কাজ শুরু করে বিএসএফ।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া নেই বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই রয়েছে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা।

এনএনবাংলা/