মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন দীপেন দেওয়ান

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন।
জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে সোমবার অফিস খোলার প্রথম দিনেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিনে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়াকে তিনি প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন।
এক সময় সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ২০০৫ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
তার বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
২০১০ সালে দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০১৬ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে তিনি ওই পদে রয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে তিনি ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করলেন।
এনএনবাংলা/
