রামিসা হত্যা: একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন, বুধবার আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সাক্ষীসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।
সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত সাক্ষ্যপর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আগামী বুধবার আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
এর আগে গত ২৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
পরে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান আসামি সোহেল রানা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ২১ মে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালতের নির্দেশে দুই আসামিকেই কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, রামিসার বাবা পরিবারসহ পল্লবী থানার সেকশন-১১-এর ব্লক-বি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। ভুক্তভোগী রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এনএনবাংলা/পিএইচ
