Skip to content

Upcoming
Ghana
0-0
Panama
Source: ESPN

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা

দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা সোহেল রানার, স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধষর্ণের পর গলাকেটে হত্যা মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন স্বপ্না আক্তার। তবে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে সোহেল রানা বলেছেন, আমাকে মাফ করে দেন।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনান। তখন তারা ন্যায় বিচার চেয়ে প্রার্থনা করেন।

শুনানির শুরুতে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। পরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করেন সোহেল রানা এবং আদালতের কাছে ক্ষমা চান।

এ সময় তিনি তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে নির্দোষ দাবি করেন। পাশাপাশি রামিসা হত্যাকাণ্ডে ডলার নামে এক ব্যক্তির শাস্তিও দাবি করেন।

গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ভবনের তিন তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ওই ফ্ল্যাটের শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর ওই দিনই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার পরদিনই নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০ মে বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

নৃশংস এই হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারেরও দাবি জানিয়ে আসছে।

এমন প্রতিবাদের মধ্যে ২৪মে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপরই মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরে ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। পরে ১ জুন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

অভিযোগ গঠনের পর গতকাল মঙ্গলবার এক দিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রামিসার পরিবারের সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণে রামিসা হত্যার ঘটনার বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

শিশু রামিসার পরিবার এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ