Skip to content

Upcoming
Portugal
0-0
Uzbekistan
Source: ESPN

গোল্ডেন বুটে এগিয়ে মেসি, পেছনে ছুটছেন এমবাপ্পে-হালান্ড

বিশ্বকাপে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের দৌড়। একদিনেই জোড়া গোল করেছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড। তিন তারকার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ পেয়েছে আরেকটি স্মরণীয় দিন।

প্রথম ম্যাচ শেষে গোলের লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন মেসি। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে অবশ্য চিত্রটা আরও রোমাঞ্চকর। তিনজনই নিজেদের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়কে এনে দিয়েছেন নতুন মাত্রা।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন মেসি। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হয়েছিল তার সামনে। গোলটি করতে পারলে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়তে পারতেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে স্পটকিকটি বাইরে মেরে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। এরপর অবশ্য নিজের চিরচেনা জাদু দেখিয়ে দুই গোল করে আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলা হয়।

এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের বিশ্বকাপ রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে সেই রেকর্ড শুধু নিজের একার করে নেননি, নতুন উচ্চতায়ও নিয়ে গেছেন। একই ম্যাচে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (২৮), সবচেয়ে বেশি জয় (১৮) এবং সবচেয়ে বেশি মিনিট (২ হাজার ৪৮৯) খেলার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।

মেসির এসব রেকর্ড স্পর্শ করতে এমবাপ্পের সামনে এখনও দীর্ঘ পথ। তবে গোল করার দৌড়ে ফরাসি তারকা ঠিকই তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। গত দুই বিশ্বকাপের মতো এবারও বড় মঞ্চে নিজের সেরাটা তুলে ধরছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে দুই গোল করার পর সেনেগালের বিপক্ষেও জোড়া গোল করে নিজের মোট গোলসংখ্যা বাড়িয়েছেন।

দুটি গোলের মধ্যে প্রথমটি ছিল অসাধারণ। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দারুণ বাঁকানো শটে করা সেই গোলটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর দ্বিতীয় গোলটি আসে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে।

অন্যদিকে বয়স, অভিজ্ঞতা ও অর্জনে মেসি-এমবাপ্পের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও গোল করার দক্ষতায় কোনো কমতি নেই আর্লিং হলান্ডের। এটি তার প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে মেসি খেলছেন ষষ্ঠ এবং এমবাপ্পে তৃতীয় আসর। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।

বিশ্বকাপ অভিষেকে ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন হলান্ড। এরপর সেনেগালের বিপক্ষেও দুটি গোল করে দলকে জয়ের পথ দেখান তিনি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে টানা দুই জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্ব।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় মেসি কিংবা এমবাপ্পেকে ধাওয়া করতে পারবেন কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে এবারের আসরে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যে তিনি অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তবে আপাতত ত্রিমুখী এই লড়াইয়ে হলান্ডকে কিছুটা পিছিয়ে রাখতে হচ্ছে দলের সামর্থ্যের কারণেই। নকআউট নিশ্চিত করলেও বিশ্বকাপের শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর কাতারে নেই নরওয়ে। কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোই তাদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়, তবু সাধারণ হিসাব-নিকাশে নরওয়ের অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।

এনএনবাংলা/পিএইচ