




পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে সৌদি আরবে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা। সৌদি আরবে ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি পাকিস্তানি ভিক্ষুক আটক হওয়ার তথ্য দেশটির পার্লামেন্টে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী।
সোমবার (২২ জুন) পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসনবিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র সৌদি আরব যখন ৫ হাজার ৫০০ ভিক্ষুককে ধরে আমাদের বলে, তাদের আপনারা পাঠিয়েছেন, তখন আমাদের কী করার থাকে? একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন এই ভিক্ষুকদের নিয়ে আমাদের কাছে প্রশ্ন তোলে, তখন আমরা কী জবাব দেব?”
শুধু সৌদি আরবই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ পাকিস্তানি প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তবে সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তি চক্র ও অবৈধ অভিবাসন নেটওয়ার্কের কারণে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাল চৌধুরী আরও জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বৈত নাগরিকত্ব চুক্তি রয়েছে। এছাড়া আরও পাঁচটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তান একদিকে অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান উগ্রপন্থী হামলা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগের কারণে ইসলামাবাদ সরকার সন্ত্রাসবাদ দমন ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে নীতিগত অগ্রাধিকারে রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেশটির শ্রমবাজার, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
এনএনবাংলা/
Tags: ইউএইপাকিস্তান পার্লামেন্টপাকিস্তানি ভিক্ষুকমধ্যপ্রাচ্যসৌদিতে পাকিস্তানি ভিক্ষুক আটক
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন