



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়োয়িং। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনা, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পানি সম্পদ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় দুপুরে এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিষয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, নদী খনন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নৌ-নেভিগেশন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণেও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এ সময় চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যান্য দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, বৃহস্পতিবার তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গেও ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক করেন। বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চীনা পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
বিকেলে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, শুক্রবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় সফর শুরুর পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী এবং মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি, রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি জোরদার করা, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করাই এ সফরের মূল লক্ষ্য।
বিনিয়োগ আকর্ষণের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং ‘চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ জন মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন বিনিয়োগকারীদের ১৫ দিনেরও কম সময়ে লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান, উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম, সুজন মাহমুদসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ
Tags: ঢাকা-বেইজিংতারেক রহমানপ্রধানমন্ত্রী
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন