Skip to content

Upcoming
Portugal
0-0
Spain
Source: ESPN

‘বডি কন্ট্রাক্টে’ মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা, বিমানবন্দর থেকে পালালো ৭১ যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টার সময় গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচ যাত্রী আটক হওয়ার পর বিমানবন্দর থেকেই পালিয়ে গেছেন আরও ৭১ যাত্রী। শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছেন।

প্রসঙ্গত, ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ হলো অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর একটি কৌশল, যেখানে কাগজপত্রে ত্রুটি বা জালিয়াতি থাকা সত্ত্বেও অসাধু চক্রের সহায়তায় যাত্রীদের ইমিগ্রেশন পার করিয়ে দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ‘বডি কন্ট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে বড় একটি দল মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাইয়ে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়। যাচাইয়ের একপর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা মিলতে শুরু করলে ওই দলের অধিকাংশ যাত্রী কৌশলে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন বিমানে ওঠেননি।

এর মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচ যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের অফলোড করা হয়। পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই একই ফ্লাইটের আরও ৭১ যাত্রী বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যান। ফলে তারাও আর বিমানে ওঠেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চেক-ইন কাউন্টারে ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়েছিল। এরপর তারা ইমিগ্রেশনও পার হয়ে যান। কিন্তু বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের ভিসা জাল বা অবৈধ হিসেবে শনাক্ত হয়।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ অতিক্রম করার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন পেরিয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বিমানবন্দরের কিছু অসাধু কর্মীর মানবপাচার ও ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিছুদিন এ ধরনের ঘটনা কমে এলেও সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দাদের ধারণা, চক্রটি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

এনএনবাংলা/