Skip to content

Upcoming
Ivory Coast
0-0
Norway
Source: ESPN

বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত মুস্তাফা মনোয়ার

দেশের চিত্রকলা ও পাপেট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বরেণ্য চারুশিল্পী ও বাংলাদেশের পাপেট চর্চার অন্যতম প্রাণপুরুষ মুস্তাফা মনোয়ার চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শিল্পীর ছেলে সাদাত মনোয়ার জানান, তার নানা তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরের পাশেই মুস্তাফা মনোয়ারকে সমাহিত করা হয়েছে।

এর আগে তার মরদেহ নেওয়া হয় তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর সোয়া ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ চ্যানেল আইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জানাজার আগে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, “মুস্তাফা মনোয়ার আমাদের সবার গুরুজন। তার সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। চার বছর আগে তার নামে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে একটি স্টুডিওর নামকরণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ কয়েক দশকের শিল্পসাধনা, টেলিভিশন, চিত্রকলা, পাপেট আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক জাগরণে মুস্তাফা মনোয়ারের অসামান্য অবদান বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

মঙ্গলবার সকালে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মুস্তাফা মনোয়ারের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে এসআই সাইফুল আলমের নেতৃত্বে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বিগিউলের করুণ সুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানানো হয় শেষ সম্মান।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। সবশেষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিছুদিন শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি ঘটে এবং ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সব্যসাচী শিল্পী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

এনএনবাংলা/