




জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উত্থাপিত নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাসের মাধ্যমে বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে এই বাজেট কার্যকর হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর নির্দিষ্টকরণ আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
বাজেট পাসের আগে সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এসব দাবি কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হয়। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এদিকে বিরোধী দলের ৪৩ জন সংসদ সদস্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৩৬টির মঞ্জুরি দাবি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে বাজেট উপস্থাপন করেন। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় এবারের বাজেটের আকার ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৮.৭৩ শতাংশ বেড়েছে। আগের অর্থবছরের বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।
নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপনের পর টানা ১১ দিন সংসদে সাধারণ আলোচনা হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেন। আলোচনা শেষে সোমবার রাতে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়।
জোহরের নামাজের বিরতির পর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদের সময় সাশ্রয়ের স্বার্থে বাকি ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্যাকেজ আকারে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় সময় বাঁচানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্পিকার তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এরপর বাকি ২৫টি মঞ্জুরি দাবি সরাসরি ভোটে পাস হয়।
বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
এবারের বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় অংশ আসবে ব্যাংকিং খাত থেকে।
বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আগেই অনুমোদিত হয়েছে।
বাজেটে প্রথমে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের ভিত্তিতে তা ৪ লাখ টাকা করা হয়। ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও এই সীমা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে নারী, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণদের করমুক্ত আয়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যক্তি করদাতাদের জন্য তিন ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার, বিভিন্ন খাতে নতুন কর ও ভ্যাট ছাড় এবং মোট ৬৪টি সংশোধনী যুক্ত করে অর্থ বিল পাস করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেটে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহে ০.২ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপের পরিকল্পনা থাকলেও সমালোচনার মুখে তা বাতিল করা হয়েছে। পরিবর্তে ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে করের আওতার বাইরে রাখার সিদ্ধান্তও বহাল রাখা হয়েছে।
এনএনবাংলা/
Tags: ২০২৬-২৭ বাজেটঅর্থ বিল ২০২৬অর্থমন্ত্রীজাতীয় বাজেটরাজস্ব
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন