সাম্প্রতিক
Skip to content

ঢাকা বিমানবন্দর থেকে দিল্লি যাওয়ার পর আশিয়ানের নজরুলের ব্যাগে মিলল ৩১ রাউন্ড গুলি

ছবি কোলাজ নিউ নেশন মাল্টিমিডিয়া

ছেলে ও মেয়েসহ ঢাকা থেকে দিল্লি যাওয়ার পর আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ব্যাগে ৩১ রাউন্ড গুলি পেয়েছিল সেখানকার কর্তৃপক্ষ। এটি মাস খানেক আগের ঘটনা।

এ ঘটনায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত করেছে। তদন্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মীর নিয়মবহির্ভূত কাজ ও দায়িত্বে গাফিলতির আলামত মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যাদের দায়িত্বে গাফিলতি এবং নিয়মবহির্ভূত প্রটোকল ও নিরাপত্তা তল্লাশিতে ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তার ব্যাগে গুলি ছিল। আমাদের স্ক্যানাররা এটা নোটিস করতে পারেনি। পরে আমি যেটা শুনেছি, দিল্লি এয়ারপোর্টে উনি যখন ফেরত আসবেন, তখন উনি একই ব্যাগ নিয়ে আসছেন। তখন দিল্লি এয়ারপোর্টে এটা ধরার পর উনি বলেছেন যে, এটা তো আমি ঢাকা থেকেই নিয়ে আসছি—এই ধরনের কথাবার্তা নাকি হয়েছে।’

রাগিব সামাদ আরও বলেন, ‘আমি ওনার ওই বিষয়টা জানি না, কিন্তু আমার এখান থেকে যেটা হয়েছে যে তিনি এখান দিয়ে গেছেন। আমাদের স্ক্রিনিংয়ে গাফিলতি দেখা গেছে। ইতোমধ্যে আমরা যে তদন্ত কমিটি করেছি, সেটার রিপোর্ট হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়েছি তাদের ব্যাপারে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

গত ১৬ জুলাইয়ের ওই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে-মেয়েকে ‘অবৈধ প্রোটোকল’ দিয়ে বাইরে থেকে বিমানবন্দরে ঢোকান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মী।

এরপর উড়োজাহাজে ওঠার আগে তাদের ব্যাগ তল্লাশির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মনিটরের দিকে না তাকিয়ে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও করমর্দন করছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৩৯৭-এ ঢাকা থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্য আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার ছেলে আরিদিন ভূঁইয়া এবং মেয়ে নুসরাত জুবাইয়ারা দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন।

তারা চেক-ইনের জন্য ‘ডি’ লাইনে যান। চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য বোর্ডিং ব্রিজ ‘সি-০১’-এ যান তারা। চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে পৌনে ২টায় তাদের ফ্লাইট ছেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের ব্যাগ স্ক্যানিং করে আনুমানিক ৩১ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদের মতো বস্তু দেখা যায়। ব্যাগে থাকা বস্তুগুলো গোলাবারুদ নিশ্চিত হওয়ার পর দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বিষয়টি জানায়।

দিল্লি বিমানবন্দরের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর ঢাকায় তদন্ত শুরু করে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরার ভিডিওনির্ভর প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওইদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত জিএসএ মিজানুর রহমান এবং জিএসএস সাইফুল ইসলাম বিমানবন্দরের বাইরে থেকে ‘অবৈধ প্রোটোকল’-এর মাধ্যমে হেভি লাগেজ গেট-৬ দিয়ে নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে-মেয়েকে বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকান।

এতে বলা হয়, ওই সময়ে হেভি লাগেজ গেট-৬-এর দায়িত্বে থাকা স্ক্রিনার সিপাহি মহিনুর যাত্রীর ব্যাগে থাকা তাজা গোলাবারুদ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। তবে যাত্রীর ব্যাগ স্ক্রিনিংয়ের সময় তিনি মনিটরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

পরবর্তীতে নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে-মেয়েরা বোর্ডিং ব্রিজ সি-১-এ নিরাপত্তা তল্লাশি ও ব্যাগ স্ক্যানিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সেখানে দায়িত্বে থাকা স্ক্রিনার এএসজি আরিফুর রহমানও ব্যাগে থাকা তাজা গোলাবারুদ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন।

পর্যবেক্ষণে আরও দেখা যায়, আরিফুর রহমান স্ক্রিনিং কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলা করে যাত্রী নজরুল ইসলামের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও করমর্দন করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিমানবন্দরে কর্মরত স্ক্যানিং মেশিন অপারেটর কর্তৃক তাজা গোলাবারুদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু ছেড়ে দেওয়া বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

এনএনবাংলা/