এশীয় বিজ্ঞান একাডেমির প্রকাশনায় ৪ বাংলাদেশি নারী বিজ্ঞানী

এশিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নারী বিজ্ঞানীদের নিয়ে প্রকাশিত একটি আঞ্চলিক প্রকাশনায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের চার নারী বিজ্ঞানী। এশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমি ও বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠনগুলোর জোট এশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড সোসাইটিজ অ্যালায়েন্স প্রকাশিত ওই সংকলনে তাদের গবেষণা ও অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, ‘বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতে নারীর অংশগ্রহণ: এশিয়ায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক প্রকাশনায় বাংলাদেশের চার নারী বিজ্ঞানীর কাজ ও সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশনায় স্থান পাওয়া চার বিজ্ঞানী হলেন—আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. আলিয়া নাহিদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের জীবনবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাবরিনা মোরিয়ম ইলিয়াস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমিন সুলতানা এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার।
ড. আলিয়া নাহিদের গবেষণার মূল ক্ষেত্র জনস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগের নজরদারি এবং রোগ নির্ণয়সংক্রান্ত উদ্ভাবন। জনস্বাস্থ্য ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার গবেষণার অবদান প্রকাশনায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শারমিন সুলতানার পদার্থবিজ্ঞান গবেষণা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় অবদানের বিষয়টিও প্রকাশনায় স্থান পেয়েছে।
অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল কৃষি এবং পরিবেশগত চাপের সঙ্গে ফসলের অভিযোজন নিয়ে গবেষণা করছেন। কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তায় তার গবেষণার গুরুত্ব প্রকাশনায় তুলে ধরা হয়েছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ড. সাবরিনা মোরিয়ম ইলিয়াসের গবেষণার ক্ষেত্র উদ্ভিদের জিনগত বৈশিষ্ট্য ও জীবনবিজ্ঞান। প্রকাশনাটিতে মানসম্মত শিক্ষা এবং উদ্ভিদবিষয়ক গবেষণায় তার অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
চার বাংলাদেশি নারী বিজ্ঞানীর এই আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় অন্তর্ভুক্তি দেশের নারী বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাদের ভূমিকার বিষয়টিও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নারী বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও অবদান তুলে ধরার মাধ্যমে প্রকাশনাটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে তাদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
এনএনবাংলা/
