Skip to content

Upcoming
Portugal
0-0
Uzbekistan
Source: ESPN

গাজীপুরে এক পোশাক কারখানা বন্ধে বেকার ১,৮০০ শ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত পোশাক কারখানা ‘ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে গত ১৬ জুন কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির দুটি সেকশনে উৎপাদন কার্যক্রম চলত। কারখানা বন্ধের ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

কারখানা বন্ধের পর শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয় নিয়ে শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ, শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ) এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য পাওনা একযোগে পরিশোধ করার কথা রয়েছে।

শ্রমিক আকবর আলী বলেন, “শ্রমিকদের কথা চিন্তা না করেই হঠাৎ কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছি। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”

আরেক শ্রমিক স্বপন মৃধা বলেন, “চাকরি হারিয়ে এখন দিশেহারা অবস্থায় আছি। নতুন কোনো কারখানায় নিয়োগ নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে বড় সংকটে পড়েছি। শুনেছি অর্থনৈতিক কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।”

শ্রমিক বিল্লাল বলেন, “স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই চাকরির ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা কার্যত পথে বসেছি।”

গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, আর্থিক সংকট ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগরের সভাপতি শফিউল আলম বলেন, কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এনএনবাংলা/