




চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার অদূরে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান এক্সাবাইট লিমিটেড এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, চাঁদা দাবির জেরে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা ও একটি ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে যায়।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানাধীন এক্সেস রোডে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি থানার খুব কাছাকাছি হলেও হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালিয়ে নির্বিঘ্নে চলে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার তথ্য অনুযায়ী, মুখে মাস্ক পরা ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী হঠাৎ অফিসে প্রবেশ করে। তারা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, হঠাৎ ১৫-২০ জন অস্ত্রধারী আমাদের অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অফিসের সব কম্পিউটার ভেঙে ফেলা হয়েছে।
হামলার পর সামনে আসে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে আসা একটি মোবাইল ফোনের হুমকির কল রেকর্ড। প্রতিষ্ঠানের দাবি, সম্প্রতি ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি না মানলে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রকাশিত কল রেকর্ডে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আপনাকে দুই দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলবেন। এখন আমাদের ছেলেরা ব্যবসা করবে। ব্যবসা করতে হলে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে, না হলে ব্যবসা করবেন না। ১৭ বছর অনেক ব্যবসা করেছেন।’
একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, ‘ইমনকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করবেন। সাজ্জাদ গ্রুপের ডেভিড ইমন কল দিয়েছে।’
এর জবাবে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মানুন জানতে চান, কেন শুধু তাকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যখন আরও অনেক প্রতিষ্ঠান একই এলাকায় ব্যবসা করছে। তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরের সবাই তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করছে এবং ব্যবসা করতে হলে তাদের সঙ্গে ‘কমিটমেন্ট’ করতে হবে।
ডিডিএনের একটি সূত্রের দাবি, এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলার পেছনে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অনুসারী ডেভিড ইমনের সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মোবাইল ফোনে হুমকির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ডেভিড ইমন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে এবং অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসীদের জন্য মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাদের একজন ডেভিড ইমন। এর আগে এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন ছোট সাজ্জাদ নামে পরিচিত সাজ্জাদ হোসেন।
এ ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এনএনবাংলা/
Tags: Digital Dot NetExabyte LimitedIIGISPচট্টগ্রাম হামলাচাঁদাবাজিসন্ত্রাসী হামলা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন