Skip to content

Upcoming
Germany
0-0
Curaçao
Source: ESPN

কাস্টমস হয়রানির প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনের হয়রানি বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানা (শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে জাহাজ ভাঙ্গা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।

বুধবার সকাল থেকে সীতাকুণ্ড উপকূল জুড়ে অবস্থিত শতাধিক শিপ ইয়ার্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে এ শিল্পের সাথে জড়িত অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক।

জানা গেছে, ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার চারটি জাহাজভাঙা কারখানায় অভিযান চালিয়ে নথিপত্র ও কম্পিউটার জব্দ করে ভ্যাট কমিশন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভাটিয়ারি স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড, প্রিমিয়ার ট্রেড করপোরেশন, মাহিনুর শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও এসএন করপোরেশন নামের চারটি জাহাজভাঙা কারখানায় অভিযান চালায় ভ্যাট কমিশনের তিনটি দল।

বিএসবিআরএ সহকারী সচিব নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) অভিযানে আসে ভ্যাট কমিশনের তিনটি দল। তারা আমাদের চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও কারখানায় অভিযান চালায়। এসময় তারা নথিপত্র ও কম্পিউটার জব্দ করে নিয়ে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার প্রতিবাদে সব কটি জাহাজভাঙা কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ফলে বুধবার সকাল থেকে আমাদের সকল কারখানায় জাহাজ কাটিং, স্ক্র্যাপ সরবরাহসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’

চট্টগ্রাম কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার হাসান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার গণমাধ্যমেক বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে কিংবা দিতে পারে, সেসব প্রতিষ্ঠানে তারা নিয়মিত অভিযান চালান। তাদের কাছে তথ্য ছিল যে শিপ ব্রেকিং কারখানার ওই কারখানাগুলো ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে কিংবা দিতে পারে। সে জন্য তারা কারখানাগুলোয় অভিযান চালিয়ে নথিপত্র জব্দ করেছেন। এখন জব্দ করা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখবেন তারা। যত কাগজপত্র নিয়েছেন, সেগুলো যাচাই করতে অনেক সময় লাগবে।

শিপ ব্রেকিং প্রতিষ্ঠান আরেফিন এন্টারপ্রাইজের মালিক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিপ ব্রেকিং ব্যবসার ইতিহাসে গত ৪০ বছর এ ধরনের অভিযান দেখেননি। কখনও তাদের কাগজপত্র জব্দ করতে হয়নি। কারণ, জাহাজভাঙা কারখানাগুলো ভ্যাট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ভ্যাট অগ্রিম পরিশোধ করেন। ফলে তাদের ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবু যদি ভ্যাট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়, তাহলে তারা নোটিশ দিয়ে জানাতে পারতেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের সহযোগিতা করত।

তিনি আরও বলেন, ভ্যাট কর্মকর্তারা তাদের হেনস্তা করেছেন। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ।

এদিকে সীতাকুণ্ডের ছলিমপুর থেকে কুমিরা পর্যন্ত উপকূল জুড়ে অবস্থিত ১৫০টিরও বেশি জাহাজভাঙা কারখানার মধ্যে সচল কারখানার সংখ্যা ৬০টি ইয়ার্ড। এসব ইয়ার্ডে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীসহ অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ ধর্মঘটের কারণে বেকার হয়ে পড়েছে।

–ইউএনবি