সাম্প্রতিক
এআইইউবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. হাসানুল এ. হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আবেদীন ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই ৬০ প্রাণহানি যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, ফার্স্ট মিনিস্টারদের চুক্তি বিদ্যুতে লুটপাট: ১৭ বছরে পরিশোধ ২,৮৯,৯৪৯ কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জ! ডাকসুতে জিন্নাহ’র ছবি প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: ঢাবি কর্তৃপক্ষ ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিনকে মেয়র প্রার্থী করল জামায়াত ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার হরমুজ বন্ধের খবরে তেলের দাম বাড়ছে হু হু করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, আতঙ্কে পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬ টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায় ভারত
Skip to content

নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের ৭ দিন পর কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার মরদেহটি বস্তার ভেতরে টুকরো টুকরো অবস্থায় ছিল।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত কামরুন্নাহার কলি উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। সে কুলুনিয়া আল ফালাহ অ্যাকাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার অসংখ্য মানুষ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে চলে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির পরিহিত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালানো হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা।

এর এক দিন পর আজ (বুধবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি কলির বলেই শনাক্ত করেন তার স্বজনরা।

স্থানীয়দের ধারণা, তাকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে বন্তায় বন্দি করে এই ডোবায় ফেলে রেখেছে দুর্বৃত্তরা।

‎পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো নিয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। তাদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে শিশুর পরিবারের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানান তারা।

‎শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি।

তিনি বলেন, আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল তা জানতে চাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসি দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

‎এ বিষয়ে ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, একটি শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য ও কারা জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওসি।

এনএনবাংলা/এফএস