হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের ৭ দিনের পরিকল্পনায় কী আছে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পরদিন থেকেই সাত দিনের সময়সীমা শুরু হবে।
আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। পরিকল্পনাটি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ব্যর্থ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা। এসব পদক্ষেপের পর সাত দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জুনের সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের জন্য হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং ইরানি তেল রপ্তানিতে ছাড় দেওয়ার বিষয় ছিল। পাশাপাশি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরবর্তী বিস্তৃত আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সমঝোতাটি ভেস্তে যায়।
ইরানের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে মূল বিরোধ দেখা দিয়েছে আলোচনার ক্রম নিয়ে। তেহরান চায়, আগে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অবরোধের অবসান হোক, এরপর হরমুজ খুলে দিয়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হোক। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন সব বিষয়কে একটি সামগ্রিক প্যাকেজ হিসেবে আলোচনায় আনতে চায়।
নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় আরাঘচির সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বৈঠক হয়েছে। ইরান এটিকে ইতিবাচক যোগাযোগ হিসেবে দেখালেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এটিকে বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা না করার কথা জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হওয়ায় এর ওপর চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। ফলে প্রণালিটি পুনরায় চালু করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অর্থনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এনএনবাংলা/
