মার্কিন নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়াতে হুতিরা হামলা চালাচ্ছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘হুতিরা দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর আবার সক্রিয় হয়েছে। সম্ভবত ইরানের নির্দেশেই তারা এমনটি করছে। সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
একই সঙ্গে ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, হুথিদের এই কর্মকাণ্ড তিনি ভুলবেন না। নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তিনি দাবি করেন, ইরানে মূল্যস্ফীতির হার ৩০১ শতাংশ।
হুতিদের উদ্দেশে ট্রাম্প লেখেন, ‘কেউ একজন তাদের বুঝিয়ে বলা উচিত, আমি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি না। আমি ইতোমধ্যে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছি। কিন্তু নির্বাচনের পরও আমি থাকব এবং কখনোই ভুলব না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা চালানোর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়বে। অন্যদিকে, বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা আশা করছে যুদ্ধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনমতও ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসির সাম্প্রতিক এক জরিপে প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা ঠিক হয়নি অথবা এ যুদ্ধের পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি ছিল না।
তবে ট্রাম্পের দাবি, রাজনৈতিক সমাবেশগুলোতে বিপুল মানুষের উপস্থিতিই তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ।
এনএনবাংলা/এফএস
