রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাকিস্তানি নাগরিক নিহত, আহত ১১

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
রবিবার চালানো এ হামলায় বিমানবন্দরের একটি যাত্রী হলে আগুন ধরে যায়। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক। এর এক দিন আগে একই বিমানবন্দরে আরেকটি ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছিলেন। সপ্তাহের শুরু থেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির সব বিমানবন্দর তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ এবং সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব দিতেই এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানবন্দরের ৪ নম্বর যাত্রী হলে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ব্রিটেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী একক হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে এর কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগের হামলাগুলোতে নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালিয়েছে। সেখানে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি। তবে সৌদি আরব এ হামলার খবর নিশ্চিত করেনি। বিবিসিও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত জুলাইয়ে ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিতে নতুন করে সহিংসতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং দেশটির অধিকাংশ জনসংখ্যা হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বসবাস করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনএনবাংলা/এনজেড
