সাম্প্রতিক
জুলাই আন্দোলনে মুগ্ধসহ ১১ হত্যা, ট্রাইব্যুনালে ২৬ আসামির বিচার শুরু তিন মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবার সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু ঢাকার ৮০ শতাংশ লোকাল বাসে নেই হেলপার, সংরক্ষিত আসনেও বসেন পুরুষ যাত্রী বেআইনি আটক বন্ধ ও ইন্টারনেট-মেট্রো চালুর নির্দেশ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের দুর্গাপূজায় চলবে ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন, ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল সাজেক ভ্যালি বন্ধ ঘোষণা, পর্যটকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা তরুণ জার্মান পর্যটকের কান্না ছুঁয়ে গেল বাংলাদেশিকে, উপহার দিলেন ম্যাকবুক নেপালে আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ৪০ বাড়ি ও একাধিক সেতু শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয়
Skip to content

শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয়

বাংলাদেশ সচিবালয়। ফাইল ছবি

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ লক্ষ্যে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি।

প্রস্তাব অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরে সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠে নির্মাণ করা হবে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স। অন্যদিকে, বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয় চত্বরে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সচিবালয় নির্মাণ ও স্থানান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থানেও পরিবর্তন আসবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের নকশাও প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রস্তাবিত ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি লে-আউটও প্রস্তুত করেছে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করবেন—এমন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন সচিবালয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। তবে পুরো কমপ্লেক্স নির্মাণ ও স্থানান্তরের কাজ শেষ করতে চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ডিসেম্বরে কাজ শুরু করতে আগ্রহী হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এনএনবাংলা/