তিন মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬.১০ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে আয় কমেছে।
নিট ও ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৫৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৮৮ শতাংশ বেশি। ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় দাঁড়িয়েছে ৪৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলারে, বেড়েছে ৫.১১ শতাংশ।
ইউরোপের বাজারে মিশ্র চিত্র
দেশের সবচেয়ে বড় পোশাক রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে আয় হয়েছে ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৩৩ শতাংশ বেশি। অঞ্চলটির মধ্যে স্পেনে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩.৭৩ শতাংশ এবং নেদারল্যান্ডসে ৯.০২ শতাংশ। তবে জার্মানিতে আয় কমেছে ০.১৫ শতাংশ এবং ফ্রান্সে ৪.৯১ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারে আয় বৃদ্ধি
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আয় হয়েছে ২২২ কোটি ৯ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ১০.৪০ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৯৪ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ২১ লাখ ডলারে। কানাডায় আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৮৫ শতাংশ বেশি।
এদিকে প্রচলিত বাজারের বাইরে অপ্রচলিত গন্তব্যগুলোতে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ৯.৪০ শতাংশ। দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২৩.১৪ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪১.৫৮ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও আয় বেড়েছে ১৮.৬৭ শতাংশ। তবে রাশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারতে রপ্তানি আয় কমেছে যথাক্রমে ২১.৩০, ১২.৪৯ ও ৫.৩৭ শতাংশ।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নিট ও ওভেন—উভয় ধরনের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে আয় কমে যাওয়ায় নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান বাজারে রপ্তানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
এনএনবাংলা/
