রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা ‘ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য

সৌদি আরবে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি আছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এই হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। গতকাল ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘সৌদি আরবে যা ঘটেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।’ সৌদিতে হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এই নিন্দনীয় হামলাগুলো নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ। এগুলো এখনই বন্ধ হতে হবে।
রুবিও জানান, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গও সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি গতকাল বলেছেন, সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরগুলোতে প্রাণঘাতী হামলা হুতিদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটানোর শামিল। এক বিবৃতিতে হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে, সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।
গতকালের এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০৯ জন। ইয়েমেনি হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদির হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আল-বুখাইতি। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
এনএনবাংলা/এনজেড
