পিছু হটছে না সিজেপি, আজ যন্তর মন্তরে আবার কর্মসূচি

ভোট কারচুপির অভিযোগে ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আজ আবারও যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে মিছিল করবে।
সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে শিন্ডে লেখেন, মোদি সরকার ভয় পাচ্ছে। আমরা আবার একজোট হলে তাদের ক্ষমতার গদি টলে যেতে পারে। কিন্তু আমরা পিছু হটছি না! আগামীকাল আবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করব। আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করব। একই পোস্টে তিনি একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তাও যুক্ত করেন।
এদিকে, দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করল জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত দফতর। সরকার ও প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আর্জি জানিয়েছে রাষ্ট্র সঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (UNHCR)। যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। শনিবার দিল্লিতে বড় আকারে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল CJP। তাতে সামিল হয় বিরোধী দলগুলিও। তবে সকাল থেকেই আন্দোলন শুরুর আগে এবং চলাকালীন একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এরপরেই এই বিবৃতি প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি, নাগরিক সমাজের সংগঠনের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের গণহারে আটক করার খবর পাওয়া গিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
এরআগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) থেকে শনিবার যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশি কড়াকড়িতে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজধানী দিল্লি। দিন শেষে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হলেও রাত পোহানোর আগেই প্রায় সবাই মুক্তি পান। তবে এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং আরও দুজন। শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় গোটা দিল্লিতে কমপক্ষে তিন হাজার মানুষকে আটক করে পুলিশ। আটকদের তালিকায় ছিলেন চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও। তারা হলেন-আম আদমি পার্টির (আপ) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামফ্রন্টের পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। মধ্যরাতের পর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই মুক্তি পেলেও ধ্রুব রাঠী ও সিজেপি নেতৃত্বের একটি অংশ আটক পুলিশের জালেই আটকে ছিলেন।
যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে। রোববারও পরিস্থিতি বদলানোর কোনো লক্ষণ নেই। সিজেপি প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে, আর পুলিশও জানিয়েছে, তাদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট সোমবার আরও বড় প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। রাজধানীজুড়ে ব্যাপক পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের গেট ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়। যন্তর মন্তরের আশপাশের ৪ কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত রাখা হয়।অনেকেই ঘর বা হোটেলের কামরা থেকে বের হওয়ার আগেই পুলিশের হাতে আটক হন। যার মধ্যে ছিলেন গুরুগ্রাম থেকে আটক হওয়া জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও। প্রতিবাদী ছাত্র সংগঠন আইসার নেত্রী নেহা বোরা দিল্লি হাটের কাছে অবস্থান নিতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের প্রিজনভ্যানে তোলে।
এনএনবাংলা/এনজেড
